Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

এটা মমতা ব্যানার্জির ধরনের বক্তব্য, সেভাবেই দেখতে চান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্যকে ‘তাঁর ধরনের একটি বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। আজ সোমবার, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা সেন্ট্রাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন জাতিসংঘের শান্তি সেনা বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য একটি প্রস্তাব জানান।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। আজ সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যকে মমতা ব্যানার্জির ধরনের হিসেবে দেখতে চাই।” তিনি আরও জানান, “কেন তিনি এমন বক্তব্য দিলেন, আমরা জানি না। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তাঁর রাজনীতির জন্য বিষয়টি ঠিক হয়নি।”

এসময়, তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করেন। উল্লেখ্য, মমতা ব্যানার্জি আজ দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রস্তাব, কেন্দ্র রাষ্ট্রপুঞ্জের (জাতিসংঘ) কাছে বাংলাদেশে শান্তিসেনা পাঠানোর আরজি জানাক।” তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাবও দিতে বলেছেন।

তৌহিদ হোসেন আরও উল্লেখ করেন, “পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে আমরা স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতে চাই।


এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য গ্রেপ্তার এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে যে, তাঁর অনুসারীরা বিক্ষোভ করার অনুমতি পেয়েছেন, যেটি অন্তর্বর্তী সরকারের নিশ্চিত করা স্বাধীনতা।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী বৈশ্বিক প্রচারণা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এই ক্ষেত্রে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। আমরা মেনে নিচ্ছি, তাদের শক্তি আমাদের চেয়ে বেশি। তবে আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি স্পষ্ট করতে।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “প্রধানত ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচার চলছে। এর বাইরেও অনেক গণমাধ্যম ভারতীয় গণমাধ্যমকে উপজীব্য করে অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে আমরা বলছি, সব সরকারের আমলেই বছরে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। সরকারের কাজ হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা তা করেছি, কিন্তু দেশ ও দেশের বাইরে এই বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সংকল্পবদ্ধ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা বার্তা দিতে চাই যে, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করবে না। আমরা হিন্দু এবং মুসলিম—কোনো ভেদাভেদ করতে চাই না। যদি কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের প্রতিবেদন একপেশে। প্রতিবেদন তৈরিতে সেখানে উপস্থিত একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রভাব রেখেছে। যুক্তরাজ্যে আওয়ামীপন্থী সাংসদের সংখ্যাও বেশি, এবং তারা প্রতিবেদনটিকে প্রভাবিত করেছে। তারা আমাদের দূতাবাসকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ